অনন্য অপ্সরী “সিলেট” ভ্রমন

অফিসের কাজের চাপ আর এমবিএ এর পড়াশুনার প্রেশার এ হাঁসফাঁস লাগছিলো। ব্যাস্ত জীবনে ছুটি যেন সোনার হরিণ, তবু শেষমেশ ফেসবুকে ট্যুর গ্রুপ বিডির একটা ট্যুরের ইভেন্ট দেখে সিদ্ধান্ত নিলাম বেড়িয়ে পরব। ঢাকা থেকে ২ দিনের ট্যুর এ সিলেট। শুক্রবার এমনিতেই ছুটি, সাথে শনিবার ছুটি নিলেই হয়ে যায়। কাছের কিছু বন্ধুকে ট্যুরের কথা জানালে তারাও সঙ্গী হতে রজি হয়ে গেলো। ঢাকার কমলাপুর থেকে বৃহস্পতিবার আমরা রাত ১০ টার ট্রেনে যাত্রা শুরু করি । শবেবরাতের রাত, এক আপু হালুয়া বানিয়ে নিয়ে আসে। সেই থেকে পুরো দলের নাম হয়ে গেলো “হালুয়া বাহিনি” । ট্রেনে হাসি ঠাট্টায় দলের নতুন মানুষদের সাথে অপরিচয়ের দেওয়ালটা নেমে এলো। রাত বাড়তে থাকে, আস্তে আস্তে চোখে ঘুম চলে আসে। সপ্ন দেখতে হবে যে, সকালে সপ্ন পুরন হবার আগে রাতেই না হয় স্বপ্নটা দেখে নেই।

সকাল ৬ টার দিকে ট্রেন সিলেটে এসে থামল । ষ্টেশন থেকে মাইক্রোতে করে হোটেল পলাশ। ততক্ষণে পেটের মধ্যে ইদুর দৌড় শুরু হয়ে গেছে । হুট করে বৃষ্টিও শুরু হয়ে গেল। লেগুনায় করে ভিজতে ভিজতে খাবার হোটেলে পৌঁছে চটজলদি নাস্তা সেরে আবারো লেগুনায় চেপে বসা। সামনে অনেক লম্বা পথ, সময় কাটাতে তাই সবাই মিলে গানের কলি খেলা শুরু করলাম। অবশেষে প্রায় ২.৩০ ঘণ্টার অসহ্য পথ পারি দিয়া আমরা আইরকান্দি নৌকা ঘাটে পৌছালাম। সেখান থেকে নৌকায় করে যেতে হবে বিছানাকান্দি। মেঘাবৃত আকাশ, মেঘে ঢাকা পর্বতমালা, পাহাড় থেকে প্রবাহিত ঝর্ণাধারার তীব্র প্রবাহ সব মিলিয়ে অবিশ্বাস্য সুন্দর বিছানাকান্দি। পাথরজলের বিছানায় শরীরটাকে এলিয়ে দিলাম আমরা।। সবাই মিলে পানিতে দাপাদাপি, সাথে ছবি আর ভিডিও তোলার পর্ব তো ছিলই। প্রায় ২ ঘন্টা জলকেলি খেলার পর আমরা দুপুরের খাবার খেতে বসলাম পাশের একটি হোটেলে। ভাত্‌, শুটকি ভর্তা , গরুর মাংস আর ডাল দিয়ে পেটপুরে মধ্যাহ্নভোজন। সন্ধ্যায় ফেরার পথে হাতে বাড়তি সময় থাকায় চা বাগান দেখে তারপর সিলেটের বিখ্যাত সাত রঙের এর চা খেয়ে আসলাম।

পরদিন ভোর ৬ টায় ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা সেরে নেই।এবারের গন্তব্য রাতারগুল,বাংলাদেশের একমাত্র সোয়াম্প ফরেস্ট। এতদিন লোকচক্ষুর আড়ালে থাকলেও এখন পর্যটকদের পদভারে মুখরিত এটি। আবারো লেগুনায় করে প্রায় ২ ঘণ্টার পথ পারি দিয়ে সেখানে পোঁছাই । স্থানীয় নৌকা ভাড়া করে এক নৌকায় ৬ জন করে চেপে বসলাম। নৌকায় যেতে যেতে মাথার ওপরের সবুজের সমারোহ আর নিচে স্বচ্ছ, শান্ত জলরাশি আমাদের কল্পনার জগতে নিয়ে গেলো। আসে পাশে হিজল-কড়চের ডালে কালো বানর, কাঠবিড়ালি কিংবা পানকৌড়ি, গাছের ডালে ডালে পাখপাখালির সংগীত, আবার জলের মাঝে সরালি ও বালিহাঁসের ডুবো খেলার ব্যস্ততা সব মিলিয়ে স্বপ্নময় এক জায়গা।

পরবর্তী গন্তব্য ছিলো জাফলঙ্গ। সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকায় পিয়াইন নদীর অববাহিকায় অবস্থিত এটি। জাফলং পৌঁছেই প্রথমে দুপুরের খাবার সেরে হাটা শুরু করলাম সেনগ্রামপুঞ্জির উদ্দেশে। আশে পাশের প্রকৃতির শোভা উপভোগ করতে করতে একটা সময় গিয়ে পৌঁছালাম পাহাড়ের পাদদেশে। সেখানে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে ছোট ছোট ঝিরি পথে পাহাড়ি ঝর্ণার পানি নেমে আসছিল। এই মায়া ঝরনায় মায়াবি মায়াতে আমরা আচ্ছন্ন। ঝর্নায় শীতল জলে গাভেজানোর পর্ব শেষ করে সবাই মিলে চলে এলাম জাফনং এর জিরো পয়েন্টে।সেখানে নদীর সচ্ছ পানিতে নেমে শুরু হয়ে গেলো জলকেলি খেলা। এইবার ফেরার পালা। তবে বিদায় নেবার সময় মনে মনে কথা দিলাম আবার দেখা হবে তোমার সাথে “সিলেট”।

 লিখেছেনঃ Shourov Ahmed
#TGBbookfair

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *